স্থানীয় সূত্র ও প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৪ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনুর উদ্যোগে বড়গাছী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হবে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
ফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। আর্থিক সুবিধা ছাড়াই বছরের পর বছর পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. কে এইচ রানা শেখ বলেন, তিনি প্রায় তিন মাস আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। তাঁদের বেতন-ভাতার সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ হিসেবে পবা-মোহনপুর এলাকার সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি এ বিষয়ে আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও জানান রানা শেখ।
তবে কবে নাগাদ এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানা যায়নি।
এদিকে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা পরিবেশ উন্নয়নে গত তিন মাসে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে শ্রেণিকক্ষ ও খেলাধুলার সময় দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য ফার্স্ট এইড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে প্রয়োজনীয় ওষুধ, অ্যান্টিসেপটিক, তুলা, ডিজিটাল থার্মোমিটার ও রক্তচাপ মাপার যন্ত্র রাখা হয়েছে।
শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট হাজিরা ব্যবস্থা। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে আইডি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও ইভটিজিং প্রতিরোধেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এ জন্য অভিযোগ বক্স স্থাপন, নিয়মিত নজরদারি এবং কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষা কার্যক্রমের মান বাড়াতে স্কুল চলাকালে পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রাইভেট পড়ানো বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়নের জন্য বিশেষ ক্লাস ও সাপ্তাহিক পরীক্ষার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মো. কে এইচ রানা শেখ বলেন, “দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সমস্যা কাটিয়ে বড়গাছী স্কুল অ্যান্ড কলেজকে একটি আধুনিক, মানসম্মত ও রোল মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে প্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের পাশাপাশি তাঁদের দীর্ঘদিনের আর্থিক বঞ্চনার অবসানই এখন সবচেয়ে বড় বিষয়। তাঁদের দাবি, নিয়মিত বেতন-ভাতা নিশ্চিত না হলে শুধু অবকাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার উন্নয়ন দিয়ে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক মানোন্নয়ন সম্ভব নয়।
শিক্ষকরা বলছেন, দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে তাঁরা যে আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন, তার একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন ও সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন তাঁরা।