মোহনপুর প্রতিনিধি : মাটি মানুষকে ধৈর্য শেখায়, আর কঠোর পরিশ্রম শেখায় নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে। মাটি ও স্বপ্নের সেই নিবিড় মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা ও সাংবাদিক মোহাম্মদ শাহিন সাগর। পেশাগত জীবনে তথ্য ও সত্য সন্ধানে কলম এবং ক্যামেরা হাতে দৌড়ঝাঁপ করার পাশাপাশি তিনি নিজেকে যুক্ত করেছেন দেশের কৃষির অপার সম্ভাবনার সঙ্গে।
পূর্বের সফল উদ্যোগগুলোর ধারাবাহিকতায় এবার তার কৃষি ভাবনায় যুক্ত হয়েছে এক নতুন মাত্রা। সফলভাবে মৎস্য চাষ এবং বিদেশি জাতের আমসহ বিভিন্ন শৌখিন ফলদ বাগান গড়ে তোলার পর, এবার তিনি পা বাড়িয়েছেন বাণিজ্যিকভাবে কলা চাষের মাঠে। সম্প্রতি নিজের উর্বর জমিতে ২০০টি উচ্চফলনশীল ‘মানিক’ জাতের কলার চারা রোপণ করে এক নতুন সম্ভাবনার সূচনা করেছেন। আজ যা মাটির বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো কয়েকটি ছোট চারা, কাল সেটাই সুস্বাদু কলার সোনালী ফলনে রূপ নিয়ে এক সবুজ বিপ্লব ঘটাবে—এমনই এক রঙিন স্বপ্নে বিভোর তিনি।
কৃষি কেবল এক টুকরো জমিতে ফসল ফলানো বা চারা রোপণ করার বিষয় নয়; এর পেছনে জড়িয়ে থাকে দিনরাতের হাড়ভাঙা খাটুনি, রোদ-বৃষ্টির সঙ্গে লড়াই এবং মাটির প্রতি এক অদৃশ্য ভালোবাসা। চারা রোপণ পর্ব শেষ হলেও উদ্যোক্তার আসল পরীক্ষা তো কেবল শুরু। চারাগুলোকে বড় করে তুলতে প্রয়োজন উপযুক্ত পরিচর্যা, জৈব ও সুষম সারের ব্যবহার, পরিমিত সেচ ব্যবস্থাপনা এবং দৈনন্দিন তদারকি। শাহিন সাগর তার নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও কঠোর শ্রমে প্রতিটি চারাকে কাঙ্ক্ষিত ফলনে রূপ দিতে পূর্ণ প্রস্তুত।
নিজের এই নতুন পথচলা ও অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শাহিন সাগর বলেন, “সাংবাদিকতার ব্যস্ততম জীবনের মাঝেও মাটির টান আমাকে সবসময় আকুল করে। মৎস্য চাষ ও ফলদ বাগান করার পর থেকেই কলার বাগান করার ইচ্ছাটা অনেক দিন ধরে লালন করছিলাম। অবশেষে গত ১ সেপ্টেম্বর ২০০টি চারা রোপণ করেছি। এর প্রতিটি চারা আমার কাছে এক একটি স্বপ্নের প্রতীক। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা আর সহনশীলতার পরীক্ষা পার করে একদিন এই গাছে গাছে ঝুলবে কাঙ্ক্ষিত কলার কাঁদি। মাটি আমাকে শিখিয়েছে—স্বপ্ন যত বড়ই হোক, তার যাত্রা শুরু হয় ছোট্ট একটি চারা রূপ দিয়েই।”
পেশাদারিত্বের পাশাপাশি কৃষিকে পরম ভালোবাসায় গ্রহণ করার এমন বহুমুখী উদ্যোগ কেবল তার নিজের অগ্রগতিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং স্থানীয় বেকার তরুণদের মাঝেও স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন আশা জোগাচ্ছে। এলাকার স্থানীয়দের মতে, শাহিন সাগরের মতো শিক্ষিত ও তরুণ পেশাজীবীরা যখন দেশের কৃষিতে এগিয়ে আসেন, তখন তা কেবল একখণ্ড জমির উৎপাদন বৃদ্ধি করে না; বরং পুরো গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সবকিছু ঠিক থাকলে এবং প্রকৃতির আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শাহিন সাগরের এই প্রজেক্ট রূপ নেবে এক নান্দনিক সবুজ সমারোহে। মেধা, আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও শ্রমের এই যুগলবন্দী বৃথা যাবে না—এমনই প্রত্যাশা সবার। সঠিক পরিচর্যা আর অদম্য মানসিকতা থাকলে যে মেধা ও পরিশ্রম কখনোই বৃথা যায় না, শাহিন সাগরের এই কলার বাগান তা-ই আরও একবার প্রমাণ করার অপেক্ষায়।
এ জাতীয় আরো খবর..