আজকের তারিখঃ | খ্রিস্টাব্দ | বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নওহাটায় পৌর বিএনপির উঠান বৈঠকে নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ঋণ না দিয়ে চেক তৃতীয় পক্ষের হাতে হস্তান্তরের অভিযোগ আশা কর্মীর বিরুদ্ধে মোহনপুরে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মা নিহত, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বাবা পবা থানায় মারপিটের মামলা না নেওয়ায় ওসির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন মোহনপুরে একই গ্রামে দুই সার ডিলার? বর্তমান ডিলারের শ্যালকের আবেদন ঘিরে প্রশ্ন রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান আর নেই মোহনপুরে ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিএনপি নেতা ইউনুসের মোটরসাইকেল শোডাউন জনগণের দ্বারপ্রান্তে সেবা পৌঁছে দেব: এমপি মিলন ২৪ বছর বেতন-ভাতা ছাড়াই পাঠদান, এবার আধুনিকায়নের উদ্যোগ বড়গাছী স্কুলে সেই অধ্যক্ষ মালেকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা, অভিযোগ চাঁদাবাজি-ধর্ষণ প্রাইভেট কারের ধাক্কায় বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজিম আহত ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রের প্রেমের ফাঁদে নবম শ্রেণির ছাত্রী, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর গ্রেপ্তার মোহনপুরে মাদকের বিরুদ্ধে মাইকিং, ধরিয়ে দিলে ৫ হাজার টাকা পুরস্কার নারীসহ অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল, সংবাদ প্রকাশের পর মাদরাসা সুপার বরখাস্ত মঞ্চে ওসি, পাশে ওয়ারেন্টভুক্ত সাজাপ্রাপ্ত আসামি! জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বৃষ্টিভেজা মাঠে মোহনপুরের শিরোপা উৎসব কেশরহাটে বিএনপি'র ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠিত মাটির টানে সাংবাদিকতার সাথে কৃষি: কলার বাগান দিয়ে সফলতার নতুন স্বপ্ন সাংবাদিক শাহিন সাগরের নবনিযুক্ত বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির সৌজন্য সাক্ষাৎ মোহনপুরে মাদ্রাসা সুপারকে ঘিরে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, তদন্তের দাবি

মোহনপুরে মাদ্রাসা সুপারকে ঘিরে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, তদন্তের দাবি

রিপোর্টারের নাম: Tathya Prokash
  • সংবাদ প্রকাশের তারিখ : Sep 2, 2026 ইং
  • 1128 বার
ছবির ক্যাপশন: অভিযুক্ত সুপারিন্টেনডেন্ট মাওলানা মো. গোলাম মোস্তফা

রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের এমপিওভুক্ত বসন্তকেদার দারুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট মাওলানা মো. গোলাম মোস্তফাকে এক নারীর সঙ্গে একটি ফ্ল্যাটের কক্ষে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। 

ভিডিওটি ঘিরে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

প্রতিবেদকের কাছে আসা কয়েক মিনিটের একটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে ওই নারীর সঙ্গে একটি কক্ষে অবস্থান করতে দেখা যায়। ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে নিজের নাম ‘গোলাম মোস্তফা’ এবং নিজেকে ‘শিক্ষক’ হিসেবে পরিচয় দিতে শোনা যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা, ধারণের সময় ও স্থান এবং কী পরিস্থিতিতে এটি ধারণ করা হয়েছে—এসব বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদার বিষয় বিবেচনায় এ প্রতিবেদনে ভিডিওটির কোনো দৃশ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ভিডিওতে যা দেখা ও শোনা যায়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘Chopol Vlog & Media’-তে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী ও একজন পুরুষকে দেখা যায়। ভিডিও ধারণকারীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘এই কে?’
ক্যামেরা ওই ব্যক্তির দিকে তাক করা হলে তিনি চাদর দিয়ে শরীর ঢেকে ফেলেন। এ সময় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বাবা, আমি একজন শিক্ষক মানুষ।’ একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমার জীবনটা শেষ করে দিয়ো না বাবা।’
পরে ভিডিও ধারণকারীরা তাঁর নাম জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ‘গোলাম মোস্তফা’ বলে পরিচয় দেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি একজন শিক্ষক মানুষ বাবা।’ এরপর তিনি ভিডিও ধারণকারীদের কাছে সাহায্যের অনুরোধ করেন।

ভিডিওতে একপর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘টিচার তো, সাংবাদিককে ফোন দিয়ে ডেকে নাও।’ এর জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘না না, বাপ আমার, সাংবাদিককে ফোন দিয়েন না। আমি ভীষণ অন্যায় করেছি।’

পরে বিদিরপুরের একজন ইউপি সদস্যকে ডাকার কথা উঠলে তাঁকে বারবার বলতে শোনা যায়, ‘বিদিরপুর কাউকে ডাইকেন না।’ এরপরও তিনি সাহায্যের অনুরোধ করেন।

তবে ভিডিওতে থাকা কথোপকথনের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট এবং এর আগে বা পরের পরিস্থিতি জানা সম্ভব হয়নি। ফলে ভিডিওতে দৃশ্যমান ও শোনা বক্তব্যের বাইরে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সম্ভব নয়।

২৮ বছর ধরে মাদ্রাসায় দায়িত্বে
মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মাওলানা মো. গোলাম মোস্তফা প্রায় ২৮ বছর ধরে বসন্তকেদার দারুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে সরকারি বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। তাঁর অবসরে যেতে আরও প্রায় পাঁচ বছর বাকি রয়েছে বলে জানা গেছে।

মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১১ জন উত্তীর্ণ এবং ২৪ জন অকৃতকার্য হয়েছে। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৩৫০ শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ২৪ জন। এর মধ্যে শিক্ষক ১৯ জন এবং কর্মচারী পাঁচজন।

অভিযোগ অস্বীকার সুপারের
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্ট মাওলানা মো. গোলাম মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনাটি অস্বীকার করেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদককে সরাসরি তাঁর সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ জানান। তবে ভিডিওতে তাঁকে নিজের নাম ও পরিচয় দিতে শোনা যাওয়ার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দেননি।

‘আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’
এ বিষয়ে বসন্তকেদার দারুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ইসারুল হক বলেন, ‘বিষয়টি অনেকের মাধ্যমে জেনেছি। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মোহনপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহমুদ হাসান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। ঘটনাটি সঠিক হলে ওই সুপারের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তসহ বেতন-ভাতা বন্ধের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

রাজশাহী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জায়েদুর রহমান বলেন, ‘এটা একটা গুরুতর অভিযোগ। বিষয়টি আমি জানি না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ওই সুপারের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে ওই সুপারের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভিডিওটির সত্যতা এবং এর সঙ্গে মাদ্রাসার সুপারিন্টেনডেন্টের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভিডিওটি সম্পাদিত, আংশিক বা বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।
স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওটির উৎস, ধারণের সময় ও স্থান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং কথোপকথনের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগটি অসত্য বা বিভ্রান্তিকর প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

উল্লেখ্য: এই সুপারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতসহ  তাঁর নিজের মেয়ের সহপাঠী এবং একই প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থীকে বিয়ে করার পর তিন মাসের মধ্যে তালাক দেওয়ার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..