মোঃ শাহীন সাগর, রাজশাহী ব্যুরো:
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে ছোট সন্তানকে নিয়ে বিপাকে পড়েন এক নারী পরীক্ষার্থী। শিশুটিকে দেখাশোনার মতো কেউ সঙ্গে না থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তিনি।
এমন পরিস্থিতিতে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা। তিনি নিজেই শিশুটিকে কোলে নিয়ে আগলে রাখেন, ফলে নিশ্চিন্তে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন ওই মা।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুর্গাপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরুর আগে শিশুকে নিয়ে বিপাকে পড়া ওই পরীক্ষার্থীর বিষয়টি ইউএনওর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে নিজের কোলে তুলে নেন।
পরীক্ষা চলাকালে পুরো সময় শিশুটিকে স্নেহ-ভালোবাসায় আগলে রাখেন ইউএনও। এতে মানসিক চাপমুক্ত হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান ওই নারী। উপস্থিত পরীক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের মধ্যে ঘটনাটি ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত কয়েকজন বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এমন মানবিক আচরণ সত্যিই অনুকরণীয়। একজন মা যেন সন্তানের কারণে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন—এমন দৃষ্টিভঙ্গিই একজন জনবান্ধব প্রশাসকের পরিচয় বহন করে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, “পরীক্ষার্থীরা যেন কোনো প্রতিবন্ধকতার কারণে পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। একজন মা যদি শুধু সন্তানের কারণে পরীক্ষা দিতে না পারেন, তাহলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই কিছু সময় শিশুটিকে কোলে নিয়েছি। এতে তিনি নিশ্চিন্তে পরীক্ষা দিতে পেরেছেন—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ শুধু একজন মাকেই সহায়তা করেনি, বরং সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। দায়িত্ববোধের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধের এমন প্রকাশ সরকারি সেবাকে আরও জনবান্ধব করে তুলবে।
এ জাতীয় আরো খবর..