রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার জাহানাবাদ ইউনিয়নের তশোপাড়া গ্রামে বর্তমানে একজন সার ডিলার দায়িত্ব পালন করলেও একই গ্রামে নতুন করে আরও একজনকে সার ডিলার নিয়োগের আবেদন ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন আবেদনকারী মো. ফিরোজ বর্তমান সার ডিলার মো. আশরাফুল আলমের স্ত্রীর ছোট ভাই (শ্যালক)। এ অবস্থায় একই এলাকায় নতুন ডিলার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা এবং আবেদনকারীর সঙ্গে বর্তমান ডিলারের পারিবারিক সম্পর্ক—দুই বিষয় নিয়েই স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সার ডিলার হওয়ার জন্য আবেদন করেছেন তশোপাড়া গ্রামের রইচ উদ্দিনের ছেলে মো. ফিরোজ। তার আবেদনটি জাহানাবাদ ইউনিয়নের তশোপাড়া এলাকার জন্য। অন্যদিকে, একই গ্রামের মৃত কাসেমের ছেলে মো. আশরাফুল আলম বর্তমানে সার ডিলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় কৃষকদের প্রশ্ন, একটি গ্রামে যখন একজন সার ডিলার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন একই এলাকায় নতুন করে আরেকজন ডিলার নিয়োগের বাস্তব প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? সরকারি নীতিমালায় একই এলাকায় একাধিক ডিলার নিয়োগের সুযোগ থাকলেও সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তি কী—তা পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শ্যালক-দুলাভাইয়ের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন
নতুন আবেদনকারী মো. ফিরোজ বর্তমান সার ডিলার আশরাফুল আলমের স্ত্রীর ছোট ভাই—এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, পারিবারিক এই সম্পর্কের কারণে নতুন ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রভাব বা সুবিধা নেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
তবে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা যাচাই-বাছাই ছাড়া আবেদনকারী কিংবা বর্তমান ডিলারকে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি বা প্রভাব বিস্তারের জন্য দায়ী করা যায় না।
স্থানীয়দের দাবি, আবেদনকারীর সঙ্গে বর্তমান ডিলারের পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টি সত্য কি না, আবেদনকারী সার ডিলার হওয়ার জন্য নির্ধারিত সব যোগ্যতা পূরণ করেন কি না এবং নতুন ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে ওই সম্পর্ক কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না—এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক।
কৃষকদের স্বার্থ কতটা নিশ্চিত হচ্ছে?
সার কৃষি উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। ফলে সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার ঘাটতি হলে এর প্রভাব সরাসরি কৃষকদের ওপর পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কৃষকদের ভাষ্য, ডিলার একজন থাকবেন নাকি একাধিক—এটি মূল বিষয় নয়। তাদের প্রধান চাওয়া হলো, মৌসুমে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত সার, ন্যায্যমূল্যে এবং কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই পাওয়া।
এ জন্য নতুন ডিলার নিয়োগের আগে এলাকায় বর্তমান ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণে কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না, কৃষকের তুলনায় বর্তমান বরাদ্দ পর্যাপ্ত কি না, নতুন ডিলারের বাস্তব প্রয়োজন রয়েছে কি না এবং আবেদনকারী সরকারি নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করেন কি না—এসব বিষয় যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সরেজমিন তদন্তের দাবি
স্থানীয় কৃষকদের আরও দাবি, নতুন ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের সুবিধার পরিবর্তে এলাকার সামগ্রিক কৃষি চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে সরেজমিন তদন্ত করে তশোপাড়া গ্রামের প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে একদিকে যেমন কৃষকদের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে, অন্যদিকে সার বিতরণ ব্যবস্থায়ও জবাবদিহিতা বাড়বে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ ও ডিলার নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে তশোপাড়া গ্রামে নতুন ডিলার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা, আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং বর্তমান ডিলারের সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..